আজকেই নাকি আমার বিয়ে। দুর এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করবাে জীবনেও ভাবিনি। ভাবছি কত মেয়ে সাথে আড্ডা দিব সব বরবাদ হয়ে গেলাে। আমি ফারহান ইন্টার।
'ফাস্ট ইয়ারে পড়ি আমরা রাজশাহীতে একটা ফ্লাটে ভাড়া থাকি। ডি
বাকিটা পরে বলি আব্লু-আম্মু বিয়ের জন্য ডাকছে এখন মেয়ের বাড়ি যেতে হবে। আমি গিয়ে আম্মুকে বললাম।আম্মু শুধু তােমার জন্য তা না হলে আমি জীবনে এখন বিয়ে করতাম না। পাঞ্জাবিটা পরে আন্ধু আমি আর চার মুরুব্বি সহ রওনা দিলাম ।
কিছুক্ষণ যাওয়ার পর আমরা রিকশা থেকে নেমে একটা বাড়িতে ঢুকেছি। বাড়িটা । অনেক সুন্দর করে সাজানাে আছে দেখে মনে হচ্ছে অনেক বড় লােক।আমিআলুকে। বললাম। আমিঃ আব্দু আমার বিয়ে কি এই বাড়ির কাজের মেয়ের সাথে হবে নাকি?
আব্দুঃ চুপ হারামজাদা কাজের মেয়ের সাথে কেন হবে। বিয়ে হবে এই বাড়ির মেয়ের সাথে। মনে মনে ভাবতে লাগলাম মেয়েটা মনে হয় কালাে ভূত হবে। তানাহলে এত
বড় লােক বাড়ির মেয়েকে আমার মত গরিব ছেলের সাথে বিয়ে দিবে নাকি?
মনটা খারাপ করে বসে আছি কোন কথা বলতেছি না। কিছুক্ষণ পরে নুপূরের আওয়াজ শুনতে পেলাম।তাকিয়ে দেখি মনে হচ্ছে একটা পরি নামছে শিড়ি দিয়ে এত সুন্দর
করে সাজিয়ে নিয়ে এসেছে।মনে মনে ভাবতে লাগলাম।
মেয়ে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে আমি রাজি আছি বিয়ে করতে।মেয়ে এসে আমার। আন্ধুকে বললাে---- মেয়ে -------- আঙ্কেল আমার কিছু কথা আছে আপনার।
ছেলের সাথে।মানে পার্সনাল ভাবে।।
আমিঃ আমার কোন আপত্তি নাই চলেন আমি রাজি আছি বলে ওঠে দাঁড়িয়েছি।তখন। মেয়েটির বাবা বললাে মেয়ের বাবা -----থাক কোন কথা বলতে হবে না।কাজী।
সাহেব এসে গিয়েছে আর মৌলভী সাহেব চলে এসেছে।।
এখুনি তােমাদের বিয়ে হবে,যা কথা বলবে দুজনের বাসর ঘরে মন খুলে বলিও।। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের বিয়েটা হয়ে গেলাে। তবে আমি একটা কথা ।
বুঝতে পারছিনা কেন আমার সাথে এই মেয়েকে বিয়ে দিলাে।।
যাই হােক বিয়ে করে বউ নিয়ে আমাদের বাসায় আসছি। রাত 11 টায় আমি বাসর ঘরে ঢুকলাম রুমে ঢুকে দেখি বউ বসে আছে আমি কাছে গিয়ে চুপ করে বসে।
রইলাম আমার অনেক লজ্জা করছে কি বলবাে?
আচ্ছা আপনার নাম কি?কোন কথা বলছে না একদম চুপ করে বসে আছে। আবার | জিজ্ঞেস করেছি জোরে এই তােমার নাম কী? -------আমার নাম মেহেরীন:.. দেখি
সরেন আমি ঘুমাবাে আমার ক্লান্ত লাগছে।
আমিঃ ঠিক আছে ঘুমান,তবে আপনি এত বড় লােক বাবার মেয়ে হয়ে আমার মত | একটা ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন কেন? ------ আমি রাজি হয়েছি একথা
কে বলেছে? আমিঃ আপনে রাজি না তাহলে বিয়ে কেন করছেন? ।
--ইচ্ছে করে করেছি নাকি? আমি কিছু দিন আগে একটা ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলাম আব্ব জোর করে আমাকে নিয়ে এসে আপনার মত গরীরের সাথে।
বিয়ে করিয়ে দিয়েছে।
আমিঃ কি আপনি বিবাহিত ছিলেন, আর তাও এই বয়সে পালিয়ে গেছেন। আচ্ছা আপনাদের মাঝে কি ডির্ভোস হয়েছে নাকি? ------তা জেনে কি করবেন আসেন এখন আমাদের বাসর হবে। আপনার এইটা হইতাে প্রথম আর আমার দ্বিতীয়। আজ।
আমিঃ আরে দুর আপনার মত মেয়ের সাথে আমার বাসর করার কোন ইচ্ছা নেই।। আমি এখন নিচে শুয়ে পড়ছি আপনি খাটে উপরে শুয়ে থাকেন। আমি চাদর আর ।
বালিশ নিয়ে সােজা ফ্লোরে শুয়ে পড়ছি।
--তাহলে আমার সাথে এক খাটে থাকবেন না?
আমিঃ না কোন দিন ও না আপনাকে আপনাদের বাড়িতে দিয়ে আসবাে। ---- আমি বাড়ি যাবার জন্য আপনাকে বিয়ে করেনি আমিঃ তাহলে কোথায় যাবেন? --আমার
ভালােবাসা মানুষের কাছে আর আপনি নিয়ে যাবেন আমাকে
আমার ভালােবাসার মানুষের কাছে। আমিঃ দেখুন আমি আপনাকে যেখানে থেকে এনেছি সেখানে ছাড়া আর কোথাও নিয়ে যেতে পারবাে না। এখন ঘুমান'বাকি কথা
কাল সকালে হবে। যাক ভালােই হয়েছে আগে সব বলে দিয়েছে। ভিন্ন।
যদি পরে বলত আমার কপালে খারাপি ছিলাে। এই কথাগুলাে ভাবতে ভাবতে কখন। | যে ঘুমিয়ে গিয়েছি বুঝতে পারিনি। মাঝ রাতে যখন ঘুম ভেঙে যাই তখন বউ কার।
সাথে যেন কথা বলছে। বাসর ঘরে বউ আমার মােবাইলে।
তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলতাছে। ইচ্ছা করছে কানের নিচে দুইটা লাগাই দেয়। কিন্তু লাগালাম না কারণ বউ পরে নারী নির্যাতন মামলা করবে। একটা জিনিস
সবচেয়ে আমি ভয় পাই সেটা হচ্ছে মামলা আর থানা।
আমি শুয়ে আছি এখনাে বউ কথা বলে যাচ্ছে ।
আমিঃ এই তােমার জন্য কি আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারবাে নাকি? ----- তােমার। চোখের পাতা আমি ধরে রেখেছি নাকী? আমিঃ আমার ঘুমের সময় কেউ কথা বললে
ঘুম আসে না। ------তাহলে এখন আমি কি করবাে?
আমিঃ তােমার কিছুই করতে হবে না তুমি বাথরুমের ভিতরে বসে সারা রাত কথা | বলাে।তােমাকে কেউ ডিসট্রাব করবে না। -----কি আমি বাথরুমের ভিতরে বসে।
কথা বলবাে?কালকে আব্বকে সব বলে দিব। আমিঃ কি বলবে?
---আমার সাথে না ঘুমিয়ে নিচে গিয়ে ঘুমিয়েছ। আমিঃ তােমার সাথে আমি বাসর করবাে তুমি ভাবলে কি করে? ---- কেন প্রবলেম কি করলে আমার তাে"এর আগে
বিয়ে হয়ছে অন্য কিছু তাে আর হয়নি
আমিঃ তুমি একদম বাসর করতে বলবে না আমি তােমার সাথে জীবনেও বাসর। করবাে না। ---- তাহলে তুই চুপ করে ঘুমা আমি আমার আগের বরের সাথেই কথা বলি। আমিঃ এই আমি তােমার বড় আপনে করে না বলতে পারলে তুমি করে বলাে।
------রাগ ওঠলে আমার মাথা ঠিক থাকে না।ওকে সরি এখন লক্ষী ছেলের মত । খাটের উপরে এসে শুয়ে পরাে। আমার একাএকা ঘুমাতে একদম ভালাে লাগে না।
আমিঃ যখন বাড়িতে ছিলে তখন তােমার সাথে কে থাকছিল? ।
-আমার বর,এখন কথা না বলে খাটের উপর আসতে বলছি না?যদি না আসাে তাহলে। কালকে কিন্তু সবাইকে চেচিয়ে চেচিয়ে বলে দিব। আমিঃ কি বলবে -৬৯৯ঐযে রাতে
তুমি একা একা ঘুমায়ছাে আমাকে ছাড়া?
আমিঃ যদি খাটের উপর আসি তাহলে কিছু করবে না তাে? ----- এই তাের আসতে হবে না নিচে শুয়ে থাক।যদি আর একটা কথা বলিস তাহলে গলা চেপে মেরে। ফেলবাে। আমিঃ ঠিক আছে কোন কথা বলবাে না চুপ করে শুয়ে থাকবাে।
মেরিনকে কিছু বদ দোয়া দিয়ে ঘুমায় গেলাম। সকালে ফ্রেস হয়ে রুমে এসে দেখি সব কিছু গুছানাে একদম পরিষ্কার করে সাজানাে। আমি খাটের উপর বসেছি ওমনি
মেরিন এসেছে একটা শাড়ি পরছে হাল্কা নীল আর লাল।।
মনে হচ্ছে পরি আমার সামনে এসেছে। -----কি দেখছাে এমন করে? আমিঃ। তােমাকে দেখছি? ---- এর আগে কোন মেয়ে কে দেখােনি ? আমিঃ দেখেছি তবে।
তােমার মত না। আচ্ছা বলােনা তােমার সত্যি আগে একটা বিয়ে হয়েছে। এ
---এক কথ বারবার বলতে পারবাে না। এখন চা খেয়ে নিচে আসাে। আমিঃ এই আমি। চা খাই না। ------তাহলে কি খাও। আমিঃ দুধ খাই। ------ তবেরে উল্টাপাল্টা
বললে একদম গলা চেপে মেরে ফেরবাে ।।
আমিঃ সত্যি বলছি আমি দুধ খাই৷ একটু দুধ দিবা?হিহিহিহি বিশ্বাস না হলে আম্মুকে জিজ্ঞেস করাে। তখনি আম্মু মেরিনের হাতে দুধের গ্লাস ধরিয়ে দিয়ে গেল।মেরিন
আম্মুর কাছ থেকে দুধের গ্লাস নিয়ে আমাকে বলল
------হিহি এই নাও তােমার দুধ। তুমি বাচ্চা ছেলেদের থেকেও খারাপ। আমিঃ মেরিন। তােমাকে একটা কথা বলি? ---- হ্যা বলাে কি কথা বলবে? আমিঃ তােমাকে একদম
দেখতে ভালাে লাগছে না।শাড়িতে ভালাে লাগছে না।(ডাহা মিথ্যে)
----- তার জন্য আমাকে এমন ভাবে ঘুরে ঘুরে দেখছাে। আমিঃ তােমার মাথা,আচ্ছা। তুমি থাকো আমি কলেজ গেলাম। আম্মুর সব কাজ করে দিবে। আর শােনআমার কাপড় গুলাে বাথরুমে রাখা আছে তুমি এই গুলাে ধুয়ে রােদে শুকাতে দিবে।
-----ঠিক আছে আমি সব কাজ করে রাখবাে তবে তােমার কাজ করবাে না। তােমার কাজ তুমি নিজে করবে। এমনকি কাপড় ধুবে আর রান্না করবে। আমিঃতাহলে তােমাকে বিয়ে করে আনছি কেন? ------- তুমি আমাকে বিয়ে করােনি
বিয়েতাে আমি তােমাকে করেছি। সাে তােমার কাছে
মেরিন কাপড় চেঞ্জ করতে লাগলাে তাই আমি চলে আসতে লাগলাম রুম থেকে,, -----এই শােনাে। আমিঃ বললাে -----আমাকে শাড়িটা পড়িয়ে দাও।আমিঃ আমি
পারি না। ------পড়তে পারছি না।প্লিজ পড়িয়ে দাও
আমিঃ ঠিক আছে দাও। তাকে শাড়িটা পড়িয়ে সাজিয়ে একদম রেডি করে সামনের
রুমে গেছি। মেরিনের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে।”
এরপর সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া শেষ করে।শ্বশুর বাড়ির দিকে রওনা হইলাম। | গাড়িতে উঠার পর মেরিন বলল, -----এই শােন আমাদের বাসর রাতে৷্যাগ্য কথা
হয়েছে কাউকে বলবে না কিন্তু।
আমিঃ ওকে ঠিক আছে। তুমি যা খুশি তাই করাে কিছু দিন পর তােমাকে তােমার আগের বরের কাছে দিয়ে দিব। আমি তােমার জীবন থেকে মুক্তি নেব। ৬.০৬-তুমি
আমাকে ছাড়া থাকতে পারবা? আমিঃ কেন তুমি আমার কে?
-----আমি তােমার কেউ না? আমিঃ নামে দুষ্টু বউ কাজে না -------আমাকে ডির্ভোস। দিয়ে তুমি আর একটা বিয়ে করবে? আমিঃ যদি তুমি চলে যাও তাহলে বিয়ে করতে।
হবে। ------ তাই করাচ্ছি তােমাকে বিয়ে
কারাে জীবন কাহিনী থাকলে যােগাযােগ করুন।
বলে আমার গলা টিপে ধরছে। আমিঃ ছেড়ে দাও মরে যাবাে তাে। -----মরলে মর। আমার কি? আমিঃ তাইতাে তােমারি ভালাে। এসব কথা বলতে বলতোসাতে চলে।
আসলাম।শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে বসে ছিলাম।।
তখন ভাইয়া আসলাে রুমে। কথায় কথায় ভাইয়াকে বলে ফেললাম মেরিন কি আগে। | বিয়ে করছে? ভাইয়া হাসতে লাগলাে! আমিঃ হাসছেন কেন? তখন ভাইয়া বলল।
শুনাে মেরিন আমাকে আগে বলে ছিলাে বাসর রাতে বর কে।
বােকা মানাবে আর তুমি সেই বলিরপাঠা।


0 Comments